ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়

ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় জানুন

স্বাস্থ্য

ক্যান্সার থেকে মুক্তির সঠিক উপায়:- ক্যান্সার এমন একটা রোগ যার নাম শুনলে যে কোন মানুষই ভয়ে আতকে ওঠেন । কারণ আমরা সবাই জানি কাউকে একবার ক্যান্সার আক্রান্ত করতে পারলে তার মৃত্যু নিশ্চিত । কারণ ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল যার ফলে অনেকেই ক্যান্সারের চিকিৎসা ঠিকমতো করাতে পারেন না । আবার অনেকেই একটা কথা মনে করেন যে কারো ক্যান্সার হলে এ রোগ থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই , এর কারণ যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে তারা চিকিৎসা নেওয়ার পরেও অনেকেই মারা যান । ক্যান্সার এমন একটা রোগ যে এই রোগ আমাদের শরীরে কখন এসে বাসা বাঁধে আমরা তা বুঝতেই পারি না ।

তাহলে কি ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় নেই ? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে আমাদের জীবন যাত্রার মান সামান্য পরিবর্তন আনলেই সহজেই আমরা ক্যান্সার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি । আজকে আমরা জানবো আমাদের জীবনে কি পরিবর্তন আনলে আমরা ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে পারি । অনেক বড় বড় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললেই আমরা ক্যান্সারের পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন ষ্টক হৃদরোগ ডায়াবেটিসহ আরো অন্যান্য রোগ থেকে বাঁচতে পারি । আজকে এই পোস্টটির মাধ্যমে আমরা জানব কি কি অভ্যাস আমাদের মেনে চলতে হবে । তাই আপনিও জটিল রোগ থেকে দূরে থাকতে পুরো পোস্টটি পড়বেন এবং আপনার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবকে সচেতন করার জন্য এই পোস্টটি তাদের সাথে শেয়ার করবেন । ক্যান্সার প্রতিরোধের কিছু উপায় ।

ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় নিম্নে আরলাচনা করা হলো:

১. ধূমপান : ক্যান্সার হওয়ার জন্য যতগুলো কারণ রয়েছে তার মধ্যে ধূমপানকে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় । গবেষণায় দেখা গেছে যেসব কারণে ক্যান্সার হয় তার মধ্য 90% ক্যান্সার ধূমপান করার কারণেই হয়ে থাকে । ধূমপান করার ফলে আমাদের গলা মূত্রথলি কিডনি জরায়ু এমনকি পাকস্থলী তে ক্যান্সার আক্রমণ করতে পারে । তাই ক্যান্সার থেকে দূরে থাকার জন্য অবশ্যই আমাদের ধূমপানকে না বলতে হবে ।

২. অবাঞ্চনীয় যৌন সম্পর্ক : অবাঞ্চনীয় যৌন সম্পর্ক ক্যান্সার এর ঝুকি বাড়ায় । আপনার সঙ্গীর যদি ক্যান্সার বা অন্য কোন বিশেষ রোগ থেকে থাকে তাহলে সহবাস এর কারনে আপনার শরীরেও সেই রোগ বাসা বাধতে পারে । তাই যদি সম্ভব হয় তাহলে এমন একজন কে সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করা যার যার যৌন সংক্রামণ নেই । সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করলে অনেক টা সংক্রামক থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করা : আপনার শরীরের স্বাস্থ্য যদি সাধারণের তুলনায় বেশি হয় তাহলে এই স্বাস্থ্য আপনাকে যেকোনো রোগে আক্রান্ত করতে সাহায্য করে । তাই আপনার স্বাস্থ্য কমাতে ব্যায়াম করার দিকে আপনার মনোযোগ অনেক বাড়াতে হবে । অনেক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে মেদের পরিমাণ বেশি হলে তা প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং আস্তে আস্তে শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় । ব্যায়াম করার পাশাপাশি আপনাকে টেলিভিশন মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহারকে কমিয়ে দিতে হবে ।

৪. স্বাস্থ্যকর খাবার : শুধু ক্যান্সার নয় শরীরের যেকোনো রোগ থেকে মুক্ত রাখতে আমাদেরকে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে । বেশি পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ফাস্টফুড খাবার কারণে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । তাই আমাদেরকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকতে প্রচুর পরিমাণে ফলমূল শাকসবজি খেতে হবে ।

৫. সূর্যের আলো : আমরা নিশ্চয়ই অনেকেই জানি যে সূর্যের আলোতে ভিটামিন ডি থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার । কিন্তু আপনি যদি সকাল ১০ টার পর থেকে বিকেল ৪ টার আগ পর্যন্ত অতিরিক্ত সূর্যের আলোর ভিতরে থাকেন তাহলে সূর্যের অতি বেগুনি রাশ্মি আপনার ত্বকে লেগে আপনার ত্বকে ক্যান্সার আক্রমণ করতে পারে । তাই আমাদেরকে সূর্যের অতিবেগুনি রাশি থেকে বেঁচে থাকতে হবে বিশেষ করে শিশুদেরকে সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করার জন্য সকাল ১০ টা থেকে বিকেলের আগ পর্যন্ত ছায়ায় রাখতে হবে ।

৬. অ্যালকোহল বা মদ্যপান : অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল কিংবা মদ্যপান আপনার শরীরে ক্যান্সার সহ অন্যান্য রোগের ঝুকি বাড়িয়ে দেয় । অতিরিক্ত পরিমাণ মদ্যপান আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ কমিয়ে দেয় । আমাদেরকে মদ্যপান থেকে দূরে থাকতে হবে । আমাদের ইসলামী মদ্যপানকে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে তাই সব সময় চেষ্টা করতে হবে মদ্যপান বা ধূমপান থেকে দূরে থাকতে ।

৭. কম আঁচে খাবার রান্না : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বেশি পরিমাণে ভাজাপোড়া বা ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর । তাই আমাদেরকে ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত খাবার কম খেতে হবে । এসব স্বাস্থ্যবিধির মেনে চললে আপনি অনেক থাকেন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারবেন । স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি আপনার পরিবারের যে কোন সদস্যের অন্য কোন রোগ আছে কিনা তা জানার জন্য প্রতি মাসে অন্তত দুই থেকে একবার সবার হেল্থ চেকআপ করবেন । আর ক্যান্সারের লক্ষণ পাওয়া মাত্র সাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *