জাপানের মানুষ

জাপানের মানুষ এর মধ্যে তরুণীদের বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে অনীহা

আন্তর্জাতিক

কেন জাপানের মানুষ এর কারনে কমছে শিশুসংখ্যা এবং বন্ধ হচ্ছে শত শত স্কুল । বাংলাদেশ ভারত ও চীন যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষা সুযোগ হারাচ্ছে অনেক শিশুরা সেখানে জাপানে প্রতি বছর প্রায় ৪৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীর অভাবে । অন্যান্য দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও জাপানে তার উল্টো চিত্র জাপানের শিশুদের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রবীনদের সংখ্যা । গবেষকরা ধারণা করেছেন এভাবে চলতে থাকলে জাপানের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে ।

কেন জাপানের মানুষ এর কারনে কমছে শিশুসংখ্যা এবং বন্ধ হচ্ছে শত শত স্কুল ।

শিশু সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে জাপানের তরুণ তরুণীরা বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন । যদিও জাপানের সরকার তাদের জনগণকে বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের জন্য আগ্রহ দিয়েছেন এবং তরুণ তরুণীদের বেতন ভাতা সহ সন্তান লালন পালনের জন্য নানা বাজেট করছেন বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিচ্ছেন । তবে সরকারের উদ্যোগেও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না মানুষের বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের প্রতি আগ্রহ আসছে না ।

জাপানের এক ৭০ বছর পুরনো হাই স্কুল যেখানে প্রত্যেক বছর শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত সেখানে এই বছর ডিগ্রী অর্জন করেন প্রতিষ্ঠানের মাত্র তিন জন শিক্ষার্থী । জাপানের সরকারের গবেষণা মতে প্রত্যেক বছর প্রায় ৪৫০ টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । এছাড়া আরো জানা গেছে জাপানের ২০০২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ।

জাপানের জনগণদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে তারা সন্তান জন্মদানে কিংবা বিয়ে করতে অনীহা প্রকাশ করছে যার ফলে ক্রমাগত কমছে শিশুর জন্মহার । জাপানের মত এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৮ লাখেরও কম শিশু জন্ম হয়েছে যা জাপানের ইতিহাসে সর্বনিম্ন শিশু জন্মহার । জাপানের সরকার বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষা এবং সন্তান লালন পালনের বাজেট দ্বিগুণ করছে তাতেও কাজ হচ্ছে না । শিশুর জন্মহার বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম টিকিয়ে রাখতে জাপান সরকার তরুণ তরুণীদের সন্তান জন্মদানের জন্য বেতন ভাতা দেওয়ার কথা চিন্তা ভাবনা করছে ।

জাপানের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন ।
সামনের ৭ বছর আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ জন্মহার কমে যাওয়ার প্রভুতা রোধ করার শেষ সুযোগ এটি তাই আমরা আগামী তিন বছরের জন্য বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি । সন্তান লালন পালনের জন্য ভর্তুকি শিশুদের শিক্ষা খাতে সহায়তা তরুণদের বেতন বৃদ্ধি এবং তাদের বিয়ে ও সন্তান ধারণের জন্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ।

জাপান এর এই জনগণদের সে সুযোগ এবং বিয়ে করার প্রতি অনীহার সমস্যার সমাধান করার না গেলে ২০৩০ সালের মধ্য শিশুর জন্মহার আরো দ্বিগুণ রোধ পাবে যার ফলে জাপানের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশাল ঝুঁকির মুখে পড়বে ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *