পদ্মা সেতুর ঋণ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিষদের প্রথম চেক হস্তান্তর ।

রাজনীতি

আজকের সকালে গণভবনে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধের প্রথম চেক হস্তান্তরের সময় শেখ হাসিনা বলেন কোন বাধার কাছে হার না মেনে আমরা নিজস্ব চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে প্রায় ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯ টাকা হস্তান্তর করে সেতু কর্তৃপক্ষ । বাংলাদেশ অর্থ বিভাগ সেতু বিভাগকে এই টাকা পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ঋণ হিসেবে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক । সেই ঋণ এর প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তি আজকে সকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিষদের প্রথম চেক হস্তান্তর করার সময় যা যা বলেন ।

অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন : পদ্মা সেতু নির্মাণের আমাদের বাধা প্রদান করা হয়েছিল এবং আমাদেরকে বদনাম দিতে চেয়েছিল , আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পদ্মা সেতু তৈরি করে দেখেছি । বিশ্ব ব্যাংক সহ অন্যান্য সকল সংস্থা নির্মাণে সরে দাঁড়িয়েছিল তখন আমি বলেছিলাম আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করব ।


সরকার গঠন করার পর আমি লক্ষ্য করতাম সকলের মাঝে একটি ধারণা ছিল যেন আমরা কারো সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া এক কদমও আগে বাড়তে পারব না , এ ধরনের ধারণা নিয়ে সবাই চলতো । আমরা ভেবেছিলাম পদ্মা সেতু যেদিন আমরা নিজের টাকায় করতে পারব সেদিন করব না হলে অন্যের সাহায্য ছাড়া কখনো পদ্মা সেতু নির্মাণ করব না । সেতু নির্মাণে আমি খুব বেশি মানুষের থেকে সাহায্য পাইনি । সবার ধারণা ছিল আরো সাহায্য ছাড়া আমরা নিজস্ব অর্থায়নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারব না । অনেক দেশের শুধুমাত্র একটি দেশের সাহায্য আমি পেয়েছি সেটা হচ্ছে মালয়েশিয়ার প্রাইম মিনিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাহেব । পরে আমরা সেতু কর্তৃপক্ষ একটা অথরিটি করলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে অল্প সুদে টাকা নেওয়া হলো । পদ্মা সেতু নির্মাণের জাতীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বাধা সম্মুখীন হতে হয়েছে সেই বাধা অতিক্রম করে আমরা যে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নির্ধারন করেছিলাম সেই অনুযায়ীই সেতুটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন : যখন আমি বলেছি পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো তখন পদ্মার দুই পাড়ের বসতি যাদের জমি চলে যাবে তারা কয়েকশো লোক লিখিতভাবে তাদের জমি আমার কাছে লিখিতভাবে পাঠিয়ে দিয়েছে যেন আমি সেতু নির্মানের কাজ শুরু করি । এভাবে সাধারণ মানুষ তাদের জমি সিগনেচার করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে ছিল । বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের এই মর্যাদা বুদ্ধি আমাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি বাপের না জড়িয়ে আছে । আমরাও যে করতে পারি বা বাংলাদেশও যে করতে পারে তা আমরা বিশ্ব বাসি কে দেখিয়ে দিয়েছি । আমি মনে করি পদ্মা সেতু শুধুমাত্র একটি সেতু না পদ্মা সেতুকে আমরা আমাদের গর্বের পতিক বলে মনে করি বা সক্ষমতা পতিক বলে মনে করি ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *