বিদআত শব্দের অর্থ কি

বিদআত শব্দের অর্থ কি? বিদআতের পরিচয় ও কয়েকটি প্রচলিত বিদআত

ইসলাম

বিদআত শব্দের অর্থ কি? বিদআতের পরিচয় সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। যার কারনে খুব সহজেই আমরা অনেক বিদআত করে থাকি। শিরক ও কুফর যেমন এক একটি স্বতন্ত্র দ্বীন বা মতাদর্শ তেমনি বিদ’আত ও একটি স্বকল্পিত জীবন ব্যবস্থার নাম। পার্থক্য এতটুকু যে, শিরক ও কুফর ইসলামের বাইরের ইসলাম বিরোধী শক্তি আর বিদআত ইসলামের নামে ইসলামের ভেতর থেকে ইসলাম বিরোধী মানব রচিত মনগড়া শরীয়ত। তাই বিদ’আত থেকে বেঁচে থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন এবং বিদআতের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।

বিদআত শব্দের অর্থ কি ও বিদ’আতের পরিচয়

বিদ’আতের আভিধানিক অর্থ নতুন সৃষ্টি, অভিনব আবিষ্কার, দৃষ্টান্তবিহীন উদ্ভাবন। বিদ’আতের পারিভাষিক অর্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে উলামায়ে কিরামের বিভিন্ন মতামত রয়েছে, যার সারমর্ম এরূপ- “ যে জিনিস বা কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেন নি, এর নির্দেশ দেননি, সেই ধরনের জিনিস বা কাজকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করা, এর অঙ্গ বলে সাব্যস্ত করা, সওয়াব বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে এই ধরনের কাজ করা, এর স্বকল্পিত আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এর জন্য কিছু মনগড়া শর্ত ও বিধির প্রবর্তন করা এবং শরীয়ত সম্মত কোন কাজ বা নির্দেশের মত নিয়মানুবর্তিতার সাথে আমল করার নামই হলো বিদ’আত। ১০২

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা ইরশাদ করেন- “সাবধান। তোমরা দ্বীনে যাবতীয় নতুন কাজ প্রবর্তন হতে দূরে থাকবে। কেননা, দ্বীনে প্রত্যেক নতুন কাজই বিদ’আত আর প্রতিটি বিদ’আতই গোমরাহী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোও ইরশাদ করেন-

“বিদ’আতী ব্যক্তির নামায কবুল হবে না , রোযা, হজ, উমরাহ কবুল হবে না , এমনকি জিহাদ এবং ফরয ও নফল ইবাদত কিছুই আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না। সে ইসলাম থেকে এমনিভাবে বেরিয়ে যায় যেমন বেরিয়ে আসে আটার খামিরা হতে চুল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনিভাবে বিদ’আতের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, তেমনিভাবে বিদ’আতীকে কোন প্রকার সম্মান প্রদর্শন করতেও নিষেধ করেছেন।

সুত্রঃ মিশকাত পৃষ্ঠা-৩১

শিরক ও বিদ’আত । সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী, পৃষ্ঠা-৩১ ৩৪ সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা-৬, হাদীস-৪৯

তিনি ইরশাদ করেন-

যে ব্যক্তি কোন বিদ’আতীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলো, সে যেন ইসলাম ধ্বংস করার কাজে সাহায্য করলো।

বিদ’আতী সে যেই হোক, আলেম হোক গায়রে আলেম হোক- সে কোন প্রকার সম্মান পাওয়ার যোগ্য নয়। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দুশমন, সে কুরআন- হাদীসের বিরোধিতাকারী। বিদ’আত প্রবর্তনকারীগণ মূলত ইসলামের পূর্ণতাকে অস্বীকারকারী।

আল্লামা শাতিবী রহ. ‘আল-ই’তেসাম কিভাবে লিখেন “বিদ’আতের সাথে নামায-রোযা-সাদকা প্রভৃতি কোন ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। যারা বিদ’আতীর সঙ্গে ওঠাবসা করে আল্লাহ তাদের ওপর থেকে তাঁর হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাদেরকে একা ছেড়ে দেন। বিদ’আতীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফাআত হতে বঞ্চিত থাকবে। তাদের উপর আল্লাহর গযব পতিত হতে থাকে। বিদ’আতীরা হাউযে কাওসার থেকে দূরে থাকবে। মৃত্যুকালে তাদের বেঈমান হয়ে মরার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। আখেরাতে বিদ’আতীদের মুখ কালো হবে, আর তাদের শাস্তি হলো জাহান্নামের আগুন।”

→ কয়েকটি প্রচলিত বিদআ’ত

  • বিদ’আতের এত সব ভয়াবহ পরিণতির কথা জানার পর প্রচলিত বিদ’আত
  • সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। যাতে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি। তাই এখন আমি আপনাদের সামনে সংক্ষেপে করিপ প্রচলিত বিদ’আতের উল্লেখ করছি।
  • জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা।
  • মৃতের কুলখানি করা। (অর্থাৎ, নির্দিষ্ট করে চতুর্থ দিনে ঈসালে সওয়াব করা)
  • মৃতের চেহলাম বা চল্লিশা করা।
  • কবর পাকা করা।
  • কবরের ওপর চাদর দেওয়া।
  • কবরের ওপর ফুল দেওয়া
  • ওরশ করা।
  • মাজারে চাদর, শামিয়ানা, মিষ্টি, টাকা-পয়সা ইত্যাদি নযরানা দেওয়া।
  • মাজারে মেলার আয়োজন করা।
  • প্রচলিত মীলাদ-কিয়াম করা।
  • জানাযার পর আবার হাত উঠিয়ে সবাই মিলে দুআ করা ।
  • দাফনের পর কবরের কাছে আযান দেওয়া।
  • আযানের পূর্বে সালাত ও সালাম পড়ে আযান শুরু করা।
  • আযানের পর হাত উঠিয়ে দুআ করা। আযান ইকামাতের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম এলে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমু দিয়ে চোখে লাগানো।

বিদ’আত যেহেতু কুরআন-হাদীসের পরিপন্থী সম্পূর্ণ মনগড়া বিষয়, নতুন উদ্ভাবন ও নব আবিষ্কার তাই এর নির্দিষ্ট সংখ্যা ও সুনির্ধারিত রূপ বর্ণনা করা কঠিন। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বিদআতের রূপও ভিন্ন ভিন্ন হয়। কাজেই ভারত উপমহাদেশে প্রচলিত কয়েকটি বিদআতের কথা আমরা আলোচনা করলাম। এর বাইরেও বহু বিদআত বিভিন্ন দেশে প্রচলিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল বিদ’আত ও মনগড়া আমল থেকে হেফাজত করুন। আমীন!ইসলামিক আরো পোষ্ট পড়ুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *