বিশ্ব ইজতেমা কবে থেকে শুরু হয়

বিশ্ব ইজতেমা কবে থেকে শুরু হয় ও তার ইতিহাস

ইতিহাস

বিশ্ব ইজতেমা কবে থেকে শুরু হয় ও তার ইতিহাস : বিশ্ব ইজতেমা তাবলীগ জামাতের বার্ষিক সমাবেশ । বিশ্ব ইজতেমার দিন বাংলাদেশসহ আশপাশের অনেক দেশ থেকে তাবলীগ জামাতের সাধারণ মুসলমানগণ উপস্থিত থাকেন বা একসাথে মিলিত হন । যা বাংলাদেশের তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয় । সাধারণত প্রতিবছরের শীতকালের এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে শীতকালের ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসকেই বিশ্ব ইজতেমার জন্য উপযুক্ত বলে বেছে নেওয়া হয় ।  আজকে আমরা জানবো বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস , উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশে এসেছে কত সালে , বাংলাদেশে প্রথম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছিল এবং বিশ্ব ইজতেমা সহ আরো অনেক তথ্য । তাই বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে আমাদের আজকের পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন ।

বিশ্ব ইজতেমা কবে থেকে শুরু হয় ও তার উৎপত্তি

এই বিশ্ব ইজতেমার বিশ্ব বলতে সারা বিশ্বকে বুঝানো হয়েছে , আর ইজতেমা আরবি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ সম্মেলন সমাবেশ বা সভা । এক কথায় বলতে গেলে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ একসাথে সমাবেশ হওয়াকেই ইজতেমা বলে । মূলত বিশ্ব ইজতেমায় তাবলীগ জামাতের লোকসহ সকল ধরনের লোক উপস্থিত হন ।

বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস ।

আজ থেকে প্রায় শত বছর পূর্বে প্রায় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভারতের মাওলানা ইলিয়াছ (রাহঃ) ভারতের উত্তর প্রদেশ সাহারানপুর এলাকায় সর্বপ্রথম তাবলীগের দাওয়াত প্রবর্তন করেন । ধীরে ধীরে মানুষ তাবলীগ পছন্দ করতে শুরু করে এবং তাবলীগের দাওয়াত আরো প্রসার হতে শুরু করে । এলাকা ভিত্তিক ইসলামিক দাওয়াত তাবলীগের এই প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবাই যাতে বছরের একদিন মিলিত হয়ে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া প্রার্থনা কল্পে সবাই মিলে এই ইজতেমার আয়োজন করেছিলেন । ধীরে ধীরে তাবলীগের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রায় ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়েছিল ।

বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ১৯৫০ এর দশকের দিকে তাবলীগের দাওয়াতি কাজ শুরু হয় । তারপর ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ থেকে ১৯৪৬ সালে তাবলীগের দাওয়াতের যাত্রা শুরু হয় । তৎকালীন মাওলানা আব্দুল আজিজ (রাহঃ) বাংলাদেশের ইজতেমা শুরু করেন । তখন থেকেই কাকরাইল মসজিদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদ ।

বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ব ইজতেমা

এই বাংলাদেশের তাবলীগের দাওয়াতে কাজ শুরু হওয়ার পর ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্কের কাকরাইল মসজিদে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল । পরের বছর আর ইজতেমা না হয় দুই বছর পর ১৯৪৮ সালে তৎকালীন হাজী ক্যাম্প চট্টগ্রামে দ্বিতীয়বারের মতো তাবলীগ জামাতের মহাসম্মেলন সমাবেশ বা ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছিল । চট্টগ্রামে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করার পর পরবর্তী প্রায় ১০ বছর আর কোন ইজতেমা আয়োজন হয়েছিল না । প্রায় দশ বছর পর ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তৃতীয়বারের মতো ইজতেমা হয়েছিল ।

তারপর থেকে তাবলীগের প্রচারণা আরো দিনে দিনে প্রসারিত হতে থাকে তাবলীগ জামাতে তাবলীগের সাথী এবং শুভাকাঙ্ক্ষী সংখ্যা বাড়তে থাকে । ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জে ইজতেমা আয়োজনের পর পরবর্তী প্রায় আট বছর কোন ইজতেমার আয়োজন না করায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর গ্রামের খেলার মাঠে তৃতীয়বারের মতো ইজতেমার আয়োজন করা হয় । সে বছর শুধু বাংলাদেশের মুসলিমগণ ইজতেমা অংশগ্রহণ করেনি বরং দেশের আশেপাশের দেশ থেকেও অনেক তাবলীগের ধর্মপ্রাণ মুসলমান সাথীরা এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছিল । যেহেতু কয়েকটি দেশের মুসলমান একসাথে অংশগ্রহণ করেছিল তাই তারপর থেকে এই ইজতেমার নাম হয় বিশ্ব ইজতেমা ।

বিশ্ব ইজতেমা কবে থেকে শুরু হয় ও বিশ্ব ইতেমার আয়োজন সম্পর্কে জানুন

১৯৬৬ সালে টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা হওয়ার পর প্রতিবছরেই তুরাগ নদীর তীরে সেই একই জায়গায় ইজতেমা আয়োজন হওয়া শুরু হয়। তুরাগ নদীর উত্তর তীরে প্রায় ১৬০ একর জায়গার বিশাল মাঠে এই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়ে থাকে ।

১৯৬৬ সালের হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্ব ইজতেমার ৫৩ তম অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল । আস্তে আস্তে বিদেশি মেহমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এই বছর বিশ্বের প্রায় ১০১ টি দেশ থেকে প্রায় চার হাজার মুসলমানগণ এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছিল । দেশীয় মুসলমান এবং বাইরের দেশের মুসলমান মিলে সেই বছর প্রায় ৩০ লক্ষের মানুষ একসাথে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছিল ।

এরপর আস্তে আস্তে তাবলীগ জামাতের সংখ্যা বৃদ্ধি , জায়গার সব কোট মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ও নিরাপত্তার কারণে তাবলীগের সুরা সদস্যের পরামর্শে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ।

২০১১ সালে তিন দিন ব্যাপি দুই ধাপে আয়োজনের পরেও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতির কারণে ২০১৬ সালে প্রতিবছর ৩২ জেলার অংশগ্রহণে দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয় । এর ফলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার অর্ধেক এক বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে এবং পরবর্তী অর্ধেক জেলা পরবর্তী বছরে অংশগ্রহণ করবে অর্থাৎ এক জেলার মানুষ একটানা দুই বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না । যেসব জেলা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের জন্য তাদের জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজন করার ব্যবস্থা করা হয় । সেই আলোকে গত দুই বছর যাবত প্রতিটা জেলা আঞ্চলিকভাবে ইজতেমার আয়োজন হয়ে আসছে ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *