রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ কি কি?

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ কি কি?

ইসলাম

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ কি কি? রোজা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার একটি পবিত্র বিধান। আর এই রোজা যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা ফরয করেছেন তাদের কিছু বিধি নিষেধ মেনে এই রোজা পালন করতে হয়। কারণ এমন কিছু কার্যকলাপ আছে যেগুলা রোজাকে বিনষ্ট করে। আর এই রোজা বিনষ্ট করি কার্যকলাপকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। আর তাহলো:

১. কিছু রোজা বিনষ্টকারী কার্যকলাপ আছে যেগুলা শরীর থেকে বের হওয়ার কারণে রোজা নষ্ট হয়। আর সেগুলার মধ্যে রয়েছে – সহবাস করা, ইচ্ছা করে বমি করা, শিঙ্গা লাগানো, মহিলাদের হায়েজ আশা। 

২. আর কিছু রোজা বিনষ্টকারী কার্যকলাপ আছে যেগুলা শরীরের ভিতরে প্রবেশ করার কারণে রোজা বিনষ্ট হয়। যেমন – পানাহার। পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

রোজা ভঙ্গের প্রধান কারণ হলো ৭টি:-

১. পানাহার: 

আমরা যেসকল খাদ্য মুখ দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করাই সেই সকল বিষয়কে পানাহার বোঝায়। আমরা যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোনো খাদ্য মুখ দিয়ে প্রবেশ করাই তাহলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমন কি নাকের ভিতর দিয়াও যদি আমরা পানি পাকস্থলীতে প্রবেশ করাই তাও রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে কারণ অজু করার সময় আমরা নাকের শক্ত হার পর্যন্ত পানি ঢুকালে সেটা পাকস্থলীতে যাবে। তাইতো রাসূল(সা:) বলেছেন:- ‘ তুমি নাকে ভালো করে পানি দাও, যদি না তুমি রোজাদার হও’ [সুনানে তিরমিযী – ৭৮৮]। যদি নাকের মধ্য দিয়ে পানি ভিতরে প্রবেশ না করতো তাহলে রাসূল (সাঃ) এরকম কথা বলতেন না। তাই আমাদের এটি এড়িয়ে চলতে হবে।

২. সহবাস: 

রোজা নষ্ট হবার প্রধান কারণ হলো স্ত্রী সহবাস করা। যদি কোনো পুরুষ রোজার দিনে ইচ্ছা করে স্ত্রী সহবাস করে তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে তার বীর্য পাত হোক বা না হোক এবং সে বিশাল গুনার ভাগই হবে। আর এর জন্য তাকে কঠিন কাফফারা দিতে হবে। 

৩. হস্তমৈথূন:

 হস্তমৈথূন এর কারণে রোজা ভঙ্গ হয়। হস্তমৈথূন বলতে হাত দিয়ে বা অন্য কোন কিছু দিয়ে বীর্য্যপাত করানো। আর যদি কেউ এরকম করে তাহলে তার উচিত হলো দিনের বাকি অংশ টুকু উপবাস থাকা এবং পরে কাযা আদায় করা। আর যদি কেউ হস্তমৈথূন শুরু করেছে কিন্তূ বীর্য্যপাত হবার আগে সেই কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে তাহলে তাকে তাওবা করে নিতে হবে পরে আর কাযা করতে হবে না। যদি তার মজিও বের হয়ে যায় তাও রোজা ভঙ্গ হবে না। তাই সবার উচিত হলো রোজার দিনে উত্তেজনাকর সকল বিষয়কে এড়িয়ে চলা। আল্লাহ তাআলা সবাই এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।

৪. পানাহারের স্থলাভিসিক্ত বস্তূ:

 পানাহারের স্থলাভিসিক্ত বলতে যে সকল জিনিস খাবারের পরিবর্তে ব্যাবহার করা হয় যেমন রোগীর রক্ত খরণের কারণে যদি তাকে রক্ত দেওয়া হয় তাহলে যদি সে রোযাদার হয় তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ আমরা খাদ্য খাই রক্ত তৈরির জন্য আর যদি সেই রক্তই দেওয়া হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে। আবার এমন ইনজেকশন আছে যেগুলা শরীরের খদ্দের অভাব পূরণ করে সেগুলো শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে । তবে যদি শরীর সুস্থ রাখার জন্য এমন কোনো ইনজেকশন ব্যাবহার করা হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না যেমন – ইনসুলিন যা ডায়াবেটিস রোগী দের নিতে হয়। বা টিকা জাতীয় ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। যদি তা মাংস পেশীতে নেওয়া হয় তাও রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ এগুলো খাবারের স্থলাভিসিক্ত নয়। তবে এসকল জিনিস রাতে নেওয়া ভালো হবে।

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ কি কি? বিস্তারিত আলোচনা।

৫. ইচ্ছা করে বোমি করা: 

যদি কেউ ইচ্ছা করে বমি করে তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি করি পেট ফুলে যায় তার জন্য বমি আটকানো উচিত হবে না। কারণ এতে তার শরীরের ক্ষতি হতে পারে। আর যদি মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে বা এমন কোনো কিছু ইচ্ছাকৃত দেখা যেটার জন্য তার বমি হয়েছে তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

৬. শিঙ্গা লাগানো: 

যদি কেউ রোজা থাকা অবস্থায় শিঙ্গা লাগায় তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

৭. হায়েজ ও নেফাজ: 

যদি কোনো মহিলার হায়েজ  নেফাজের কারণে রক্ত খরণ হয় তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমন কি যদি রোজা রাখা অবস্থায় তার রক্ত ক্ষরণ শুরু হয় এবং দিনের যদি সামান্য সময় থাকে তাহলেও তাকে পরে রোজার কাযা আদায় করতে হবে কারণ তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি নারী অনুভব করে যে তার হায়েজ শুরু হতে যাচ্ছে কিন্তূ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ইফতার করে নেওয়ার পর যদি রক্ত ক্ষরণ শুরু হয় তাহলে তার সেই দিনের রোজা হয়ে যাবে পরে আর কাযা আদায় করতে হবে না। আবার যদি নারির হায়েজ নিফাজ থাকা অবস্থায় রাতে তার রক্ত ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং যদি সে রোজার নিয়ত করে এবং গোসল করার আগেই ফজর হয়ে যায় তাহলে আলেমদের মত হলো তার রোজা হয়ে যাবে। আর এই হায়েজ নিফাজ রোধ করার জন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত নয়। কারণ আল্লাহ তাআলার যেভাবে ইচ্ছা সেই ভাবেই তার বান্দার কাছ থেকে আমল গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা যদি তার বান্দিকে সেই সময় হায়েজ নেফাজ দেন তাহলে তার বান্দিকে শেটাতাই খুশি থাকতে হবে। 

কোনো প্রকার হায়েজ নেফাজ রোধ কারি ঔষুধ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ অনেকের এই ধরনের ঔষুধ ব্যবহারের ফলে অনেক সমস্যা হয়েছে। কিন্তূ যদি ঔষুধ ব্যবহারের ফলে তার সেই জায়গা শুকিয়ে যায় তাহলে সে রোজা রাখতে পারবে। এতে তার রোজা হয়ে যাবে।

 এগুলা হলো রোজা ভঙ্গের মূল কারণ। এখন যদি রোগের কারণে রোগীর মুখে কোনো কিছু স্প্রে করা হয় এবং যদি সেটা সে না খেয়ে ফেলে তাহলে তার রোজা হবে। আবার অনেক সময় এক্সরে করার সময় পেটের মধ্যে কোনো কিছু যদি প্রবেশ করানোর দরকার হয় যদি সেখানে খাদ্যের কোনো কিছু না থাকে তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হবে না।

তবে রোজা রাখার জন্য সবার খেয়াল রাখা উচিত যেনো রোজা ভেঙ্গে যায় এমন কার্যকলাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।

আর এটার চেয়ে বড় কথা হলো – আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *