হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি

হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি | হজ্জের পটভূমি ও হজ্জের ফযীলত

ইসলাম

হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি | হজ্জের পটভূমি ও হজ্জের ফযীলত: হজ্জ একটি ফরজ ইবাদত । মুসলমানদের মধ্য যাদের হজ্জ করার সামর্থ আছে তাদের হজ্জ করা ফরয । পুরো মুসলিম বিশ্বের মুসলমান সবার মনে একটাই আশা তারা দুনিয়াতে থাকতে একবার হলেও মক্কা মদিনা গিয়ে আমাদের প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মাদ ( স ) কে একবার সালাম দেওয়ার । কিন্তু আবার টাকা থাকলেই সকলে হজ্জ পালন করতে পারবে না , হজ্জ পালন করার জন্য কিছু শর্ত পুরন করতে হবে । আজকে আমরা এই পোষ্ট এর মাধ্যমে জানব হজ্ব ফরয হবার শর্ত এবং হজের ফযীলত ও হজের পটভূমি ।

হজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে , আপনি চাইলেই যেকোনো সময় মক্কা মাদিনা গিয়ে হজ্জ পালন করতে পারবেন না । আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

“হজের কয়েকটি মাস আছে সুপ্রসিদ্ধ ।”২৬২

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন, হজের মাসসমূহ হচ্ছে: শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজের প্রথম দশদিন। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যদি হজের ইচ্ছা করে এবং হজের নিয়তে শাওয়াল মাসে ইহরাম বাঁধে, আর কোন কারণে তার ইহরাম ছুটে না যায়, তা হলে ঐ ব্যক্তি উক্ত ইহরামেই হজ আদায় করতে পারবে, তবে তা মাকরুহ হবে। এ জন্যই বলা হয়েছে- হজের মাস তিনটি: শাওয়াল, যিলকদ ও যিলহজ ।

আজ সারা পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষ যাদের উপর হজ ফরয হয়েছে এবং যারা হজের তাওফীক লাভ করেছেন, তাঁরা যিয়ারতে হারামাইন শরীফাইনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এ মুহূর্তে আমার এ বিষয় আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, আমরা যেন হজের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও ফযীলত সম্পর্কে জানতে পারি এবং এর প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করা ও কালক্ষেপণের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারি এবং সে অনুযায়ী এ মহান জিম্মাদারী আদায়ের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি।

→ হজ্জেরর পটভূমি

হজের বিধান হযরত আদম আ. থেকে চলে আসছে। যেদিন বায়তুল্লাহ’র ভিত্তি রাখা হয়েছে সেদিন থেকেই এর তাওয়াফ ও যিয়ারত শুরু হয়েছে। কোন দিন বন্ধ হয়নি আর বন্ধ হবেও না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে এ ঘর বহুবার বিধ্বস্ত হয়েছে এবং তা পুননির্মাণ করা হয়েছে। নূহ আ.-এর মহাপ্লাবনের সময় এর কোন চিহ্নও ছিল না। আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল আমীনের মাধ্যমে ইবরাহীম আ.-কে এ স্থান চিহ্নিত করে দিলে তিনি আল্লাহর নির্দেশে তা পুননির্মাণ করেন।

→ হজ্জের ফযীলত

হজের ফযীলত হজের ফযীলত বর্ননা করতে গিয়ে হযরত মহাম্মাদ (স) ইরশাদ করেন

” আল্লাহ তায়ালা বলেন যে ব্যাক্তি লোক দেখানোর জন্য নয় বরং আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য হজ্জ পালন করল এবং হজ্জ পালন এর সময় স্ত্রী সহবাস এবং যাবতীয় গুনাহ থেকে বিরত থাকল , যে যেন নবজাতক শিশুর ন্যায় তার বারিতে ফিরল “
তিনি আরও ইরশাদ করেন- মানে “কবুল হজের বদলা একমাত্র জান্নাত ।”২৬৮

→ হজ্জ ফরয হওয়ার বিধান

আমাদের শরীয়তে হজ ফরয হয় নবম হিজরীতে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধর্মীয় ব্যস্ততার দরুন সে বছর হজ করতে পারেন নি। তখন তিনি হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-কে আমীরুল হজ মনোনীত করে হজে পাঠান। দশম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সমস্ত সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে হজ করেন এবং বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হজ ফরয হওয়া সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে দ্ব্যার্থহীন ঘোষণা রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-

“যাদের হজ্জ্ পালন করার সামর্থ আছে তাদের মক্কা মদিনা গিয়ে হজ্জ পালন করা ফরয , এবং কেউ তা প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। ২৭০ হজ ফরয হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তিনে। সে “আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ কর।

→ হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি ? হজ্জের ফরয হওয়ার শর্তসমূহ

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির প্রতি হজকে ফরয করেছেন কিছু শর্তসাপেক্ষের উপর। শর্ত হচ্ছে, মুসলমান হওয়া, সাবালক হওয়া, সুস্থ হওয়া, স্বাধীন হওয়া, ও বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য থাকা। সামর্থ্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে সাংসারিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত এ পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে, যা দ্বারা সে কা’বা গৃহ পর্যন্ত যাতায়াত ও সেখানে অবস্থানের ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া গৃহে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে । মহিলার জন্য এসব কিছুর সাথে সাথে মারাম পুরুষ সঙ্গে থাকতে হবে। রাস্তা নিরাপদ হতে হবে। অর্থাৎ, জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশংকা না থাকতে হবে। এসব সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ করা থেকে বিরত থাকবে, তার ব্যাপারে শরীয়তের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

“পথের খরচ ও বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছবার মত বাহন থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ না করে তার ইয়াহুদী বা নাসারা (খ্রিস্টান) হয়ে মরা বড় কথা নয়।’ |”২৭২ অর্থাৎ, এমন ব্যক্তির ঈমানের উপর মৃত্যুর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ ।

আপনি আরো জানতে পারেন:- বিদআত শব্দের অর্থ কি? বিদআতের পরিচয় ও কয়েকটি প্রচলিত বিদআত

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *