দুর্ভিক্ষ

দুর্ভিক্ষ ২০২৩ সালে কি সত্তিই হবে ?

বাংলাদেশ

দুর্ভিক্ষ ২০২৩ সালে কি আসলেই হবে ? আমরা ইতিমধ্য জেনে গিয়েছি যে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় ৪৫ টা দেশ ২০২৩ সালে দুর্ভিক্ষের কবলে পরতে পারে ।


বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন এর বলেছেনঃ আজকে যে সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমরা দেখতে পাচ্ছি এর প্রভাব থেকে আমাদের দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে । তিনি আরো বলেন এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে । যে যা পারো তাই চাষ করবে , গাছ লাগাবে , ফসল লাগাবে , পুকুর থাকলে মাছ চাষ করবে , শাকসবজি চাষ করবে , ফলমূল করবে , যার যার খাবার উৎপাদন তার তার করতে হবে . সঞ্চয় করতে হবে ।

Food and Agriculture Organization এর মতে বাংলাদেশ ৪৫ টা দেশের মধ্যে একটা যারা সামনে খাদ্য সংকটে ভুগতে পারে । পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যাদের পৃথিবীর খাবার উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল বলা হয় , এইরকম জায়গাগুলোকে বলা হয় ব্রেড বাস্কেট । পৃথিবীতে মোট ছয়টা ব্রেড বাস্কেট আছে , এদের মধ্যে রয়েছে

  1. ব্রাজিল
  2. আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া
  3. চায়না
  4. দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া
  5. কানাডা
  6. রাশিয়া ও ইউক্রেন

এই জায়গাগুলোর মধ্যে কোন এক জায়গার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে পুরো পৃথিবী হুমকির মুখে পড়বে ।

রাশিয়া এবং ইউক্রেন এর মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অনেক উর্বর । এদের মধ্যে এমন এক এলাকা আছে যাকে (Central Black Earth Region) বলা হয় , যেটা রাশিয়ার মধ্যভাগ এলাকা । এখানকার মাটি এত উর্বর যে এটাকে ব্ল্যাক আর্থ বা কালো মাটি বলা হয় । এই মাটিতে অ্যামোনিয়াম ও ফসফরাস এর মত যে পুষ্টিকর উপাদানগুলো থাকে এগুলোর পরিমাণ অনেক বেশি , আর এই মাটি পানি ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি । তাই এটাকে বিংশ শতাব্দীতে ব্রেড বাস্কেট বা এগ্রিকালচারাল পাওয়ার হাউস বলা হয় ।

Google news

দুর্ভিক্ষ ২০২৩ সালে কি সত্তিই হবে ?

এখানে অনেক ধরনের শস্য উৎপাদন হয় যার মধ্যে গম , এ রাশিয়া এবং ইউ ক্যান এলাকা পুরো বিশ্বের মধ্যে ৩০% গমের উৎপাদন নিশ্চিত করে . এবং সূর্যমুখী ফুলের ৬৫% উৎপাদন করে ,

কিন্তু রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে তারা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না এবং তাদের উৎপাদিত ফসল তাদের দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারছে না।

ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে এপ্রিল এবং মে মাসে বীজ বাবনের কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে তারা বীজ বপন করতে পারে নাই । ইউক্রেন এর প্রেসিডেন্ট বলেছে অন্যান্য বছর থেকে ফসল উৎপাদনের হার এই বছর অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে ।

আর যেহেতু ৬ টি ব্রেড বাস্কেট এর একটি উক্রেন আর রাশিয় এবং সেখানে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে না , কিছুটা উৎপাদন হলেও যেটা তাদের দেশের বাইরে পাঠাতে পারছে না , তাই এর প্রভাব ২০২৩ সালে পুরো পৃথিবীর মানুষ দেখবে ।

তার মধ্য বাংলাদেশ , পাকিস্থান অন্যতম । তাই বলা যায় ২০২৩ সালে এমন হতে পারে , খাদ্যের অভাবে কোনো খাবারের দোকান খুলতেই পারবে ।

কেন সবাই ২০২৩ সালে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে !

দুর্ভিক্ষ এর আরেকটা অন্যতম কারন হল সার । ইউক্রেন এর যেগুলো বন্দর ছিলো , সেখান থেকে ইউক্রেন পণ্য আমদানি রপ্তানি করে যুদ্ধের কারনে রাশিয়ে মাইনিং করে তাদের সব বন্দর গুলো ধংস করে দিয়েছে । একদিকে তারা বীজ বপন করতে পারছে না আরেকদিকে জমিতে দেওয়ার জন্য সার পাচ্ছে না তাই ফসল উৎপাদন হচ্ছে না ।

এছাড়া কিছু কিছু দেশ আছে যারা অন্য দেশ থেকে সার আমদারি করে ফসল উৎপাদন করে , এখন যদি তারা ফসল এর জন্য সার না পায় তাহলে তারাও ফসল উৎপাদন করতে পারবে না যেমনঃ ব্রাজিল । এছাড়াও বাজিল তাদের ফসল এ পানি সেচ দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ পরিমানে তেল পাচ্ছে না তাই তাদের ফসল এ সেচ দেওয়ার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ,

আর এইভাবে রাশিয়া ইউক্রেন এর সাথে যে দেশগুলো সার এবং তেল অন্য দেশ থেকে নিয়ে চাষ করে তারাও এই বছর তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারবে না , ফলে সামনে বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে খাদ্য সংকট দেখা দিতেই পারে ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *