পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন

ইসলাম

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন: ১৯৪৭ সালের আগে বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ পাকিস্তান এই তিন দেশ মিলে একটা দেশ ছিল তখন সবাই হিন্দুস্তান নামে চিনতো । ১৮৪৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর হিন্দুস্তান ইংরেজরা শাসন করেছিল । ১৯৪৭ সালে ইংরেজদের থেকে হিন্দুস্তান স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান এবং হিন্দুস্তান আলাদাভাবে ভাগ করে দেওয়া হয় । তখন বর্তমান বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল । কিন্তু ১৯৭১ সালে নয় মাস রক্তক্ষয় যুদ্ধে মাধ্যমে বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয় । যুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের যোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছিল যেমন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা আর্থিক সাহায্য ইত্যাদি । ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান তিনটি আলাদা দেশ হিসেবে পরিচিতি পায় ।

যুদ্ধের আগে যেহেতু ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান এক ছিল তখন ভারতের অনেক মানুষ বাংলাদেশ এলাকায় বসবাস করত কিন্তু দেশভাগের পর তারা আর তাদের দেশে ফিরে যায়নি বরং এখানেই রয়ে গেছে । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। বাড়ি ভারতে কিন্তু নামাজ পড়তে ছুটে আসে বাংলাদেশে । চা ও খান বাংলাদেশের দোকান থেকে , এমনকি বিয়ে-সাদী থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে ভুলেন না একে অপরদের । বাংলাদেশে কোনো অনুষ্ঠান হলে দাওয়াত পায় ভারতের মানুষ আবার ভারতে কোন অনুষ্ঠান হলে দাওয়াত দিতে ভোলেন না বাংলাদেশীদের । এমনই এক আজব গ্রাম রয়েছে বাংলাদেশের যশোরে । এই আজব গ্রামটির নাম ইন্ডিয়ান পাড়া ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিদিন কেন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন

সেখানকার মানুষ বলেন : দুই বাংলার মানুষ আমরা মিলে মিশে থাকি , খেলাধুলা করি , কাজ করি , আমাদের মধ্যকোন ঝামেলা হয় না তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা হয় । শুধু তাই নয় একই স্কুলে লেখাপড়া করেন দুই দেশের বাচ্চারা । দীর্ঘদিন ধরে দুই বাংলার মানুষ জন এভাবেই বসবাস করছেন যশোরের চৌগাছা সুখ পুকুরিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুরে ।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে দৌলতপুর গ্রাম । একটি অংশ পরে বাংলাদেশের দৌলতপুর মৌজায় অন্যটি পরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগদা থানা মৌজায় । দেশ ভাগের সময় দুই দেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ফলে ভারতের ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার থেকে যায় কাঁটাতারের এদিকে বাংলাদেশের দৌলতপুর গ্রামে , পরবর্তীতে তার নাম হয়ে যায় ইন্ডিয়ান পাড়া ।

সীমানা ভাগ হলেও সম্পর্কের বন্ধনে ভাগ হয়নি । এলাকার দু দেশের মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার কোন ফাটল ধরেনি ।সুখ পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান ইন্ডিয়ানপাড়া ভারতের অংশ হলেও সেখানে কোন তারকাটার বেড়া নেই । সীমান্তবর্তী ইন্ডিয়ান পাড়া এখন দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি । দুই দেশের বাঙালির এমন মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসে ইভির সমান অনেক মানুষ ,

কিন্তু তারা বর্ডার ক্রস করতে পারেন না , দূর থেকে দেখে যান তাদের সমাজ ব্যাবস্থা । দুই দেশের মধ্য মিলবন্ধন তাকলেও তাদের রাস্তা এবং বিদ্যুৎ এর সমস্যায় ভুগছেন গ্রামবাসী । এসন কি তাদের বিবাহ হলে সবাই মিলেই আনন্দ করে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *